অ্যানোনিমাস এর ইতিহাস

BTtutorial
বর্তমানে ভার্চুয়াল দুনিয়ার ত্রাস বিশ্বের
একমাত্র মুখোশধারী এবং বিশ্বের এক নম্বর
হ্যাকিং দলের নাম ‘অ্যানোনিমাস’। শাব্দিক
অর্থে অ্যানোনিমাস মানে পরিচয়হীন। অর্থাৎ
যা কিছুর পরিচয় গোপন, সেটিই অ্যানোনিমাস।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের দাপুটে সব দেশের
ভার্চুয়াল নিরাপত্তা ভেঙে আতঙ্কের নাম
হয়ে উঠেছে অ্যানোনিমাস। অ্যানোনিমাস কারও
কাছে ভার্চুয়াল বিপ্লবী সংগঠন, কারও সাক্ষাৎ
আতঙ্ক! অ্যানোনিমাস
নামধারী সংগঠনটিতে আছে কারা?
১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করে অ্যানোনিমাস।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজের ম্যাসাচুসেটস
ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির [এমআইটি] তিন
বন্ধু ক্রিস্টোফার ডয়ন, রিচার্ড স্টলম্যান
এবং মাইকেল প্যাটন মিলে ‘দ্য টেক মডেল
রেইলরোড ক্লাব’ নামক কম্পিউটার চালু করেন।
এই গ্রুপটিই পরবর্তী সময়ে কম্পিউটার ক্লাব
থেকে হ্যাকিং গ্রুপে রূপান্তরিত হয়। তারা খেলার
ছলে ভিডিওগেম হ্যাক করত, ক্যাম্পাসের
কম্পিউটারগুলোর কার্যক্ষমতা হ্যাক
করে বাড়িয়ে নিত। তবে ধীরে ধীরে সংগঠনটির
সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে। এমআইটির দক্ষ
গ্রোগ্রামাররা ক্লাবটিতে যোগ দেন। ২০০৩
সালের ১ অক্টোবর তারা ফোরচ্যান ডট কম
নামক একটি ওয়েবসাইট চালু করেন।
ফোরচ্যানের বিশেষত্ব ছিল, এখানে সবাই
নিজের পরিচয় গোপন রেখে যে কোনো কিছু
প্রকাশ করতে পারতেন। সেখানে তারা বিভিন্ন
কার্টুন ছবি তৈরি করে পোস্ট করতের।
কার্টুনগুলো ছিল তৎকালীন সমসাময়িক
আমেরিকান জীবনযাত্রার ধরন, সামাজিক ও
রাজনৈতিক পরিস্থিতি এসবকে ব্যঙ্গ করে।
যেটি বর্তমানে ট্রোল
হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত, সেই ট্রোলের শুরু
হয়েছিল তাদের হাত ধরেই। ফোরচ্যান জনপ্রিয়
হতে শুরু করে। ২০০৭ সালের
মাঝামাঝিতে ফোরচ্যান
থেকে তারা ধীরে ধীরে দুর্নীতির প্রতিবাদ
করতে বড় পর্যায়ের হ্যাকিংয়ে নেমে পড়েন।
সর্বপ্রথম তারা এমআইটির ওয়েবসাইট হ্যাক
করে সেখানে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার
কথা লিখে রাখেন। এরপর তাদের প্রতিবাদ
হতে থাকে আরও বৃহৎ উপায়ে। ২০০৮ সালের ১৪
জানুয়ারি ইউটিউবে ‘চার্চ অব সায়েন্টোলজি’
প্রোগ্রামের একটি ভিডিও লিক হয়,
যেখানে অভিনেতা টম ত্রুক্রজ ফোরচ্যান
ফোরাম নিয়ে ব্যঙ্গ করেছে। এর পরপরই ২১
জানুয়ারি টম ত্রুক্রজের ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার
নির্দেশ করে ‘মেসেজ টু সায়েন্টোলজি’
নামে পরিচয়বিহীন একটি ভিডিও
ইউটিউবে প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমেই শুরু হয়
প্রোজেক্ট চ্যান্টোলজি। এরপর ১০
ফেব্রুয়ারি তারা ডিডিওএস অ্যাটাকের
মাধ্যমে চার্চ অব সায়েন্টোলজির অফিসিয়াল
ওয়েবসাইট ডাউন করে দেয়। সেই সময়
থেকে অ্যানোনিমাস নামটি গ্রুপের নাম
হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেন তারা। ‘ভি ফর
ভেনডাটা’ নামক আলোচিত হলিউড চলচ্চিত্রের
প্রধান চরিত্র গায় ফক্সের পরিধানকৃত
মুখোশটি ব্যবহার শুরু করে অ্যানোনিমাস।
গ্রুপের সদস্যরা হ্যাকটিভিস্ট
হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। হ্যাকটিভিস্ট
শব্দটি হ্যাকার এবং অ্যাক্টিভিস্ট শব্দের
মিশ্রণে তৈরি। এর অর্থ, যারা বিনা কারণে হ্যাক
করে না, প্রতিবাদের অস্ত্র
হিসেবে হ্যাকিং করে থাকে।
আস্তে আস্তে বিভিন্ন দেশে তাদের সদস্য
সংখ্যা তৈরি হতে থাকে। তখন অ্যানোনিমাস
আন্তর্জাতিক অর্থাৎ বহির্বিশ্বের
দুর্নীতিপরায়ণ দেশগুলোর সরকারের ব্যাপারেও
পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। অ্যানোনিমাস
অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ইন্টারনেট
নিয়ে পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ‘অপারেশন
ডিজরাইডি’ পরিচালনা করে। তারা প্রতিবাদস্বরূপ
প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের ওয়েবসাইটটি প্রায়
এক ঘণ্টার জন্য অচল করে ফেলে।
পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে তারা ‘অপারেশন
টিটস্ট্রোম’, ‘অপারেশন পেব্যাক’ থেকে শুরু
করে উইকিলিকসের ফান্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার
প্রতিবাদে বেশ বড় বড় অপারেশন চালায়। এ সময়
তারা অস্ট্রেলিয়ান সরকারি ওয়েবসাইট,
আমেরিকার মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন,
রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান
সফটওয়্যার ফার্ম, বিভিন্ন ফাইল
শেয়ারিং সাইটসহ আরও বিভিন্ন সাইটে সাইবার
আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণেরই পরবর্তী অংশ
হিসেবে তারা মাস্টারকার্ড, ভিসা, ব্যাংক অব
আমেরিকা এবং অ্যামাজনে সাইবার আক্রমণ
করে। ওই সময় মাস্টারকার্ড এবং ভিসা দিয়ে সব
ধরনের লেনদেন বন্ধ হয়ে পড়ে। এরপর ২০১১
সালে অ্যানোনিমাস আরব বসন্ত,
এইচবিগ্রে ফেডারেল, জিওহট
এবং ওয়ালস্ট্রিটের
বিষয়গুলো নজরে আনে এবং এই
উপলক্ষে তারা তিউনেশিয়া এবং মিশরের
সরকারি ওয়েবসাইটগুলো, সনি প্লে স্টেশন
নেটওয়ার্ক এবং এইচবিগ্রের অফিসিয়াল
ওয়েবসাইটে সাইবার আক্রমণ চালিয়ে নষ্ট
করে দেয়। এমনকি ২০১১ সালে বাংলাদেশ
সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান
নিয়ে তারা বাংলাদেশি সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে ব্যাপকহারে আক্রমণ
চালায়। এভাবে ধীরে ধীরে সব
দেশে তারা নিজেদের ভার্চুয়াল ক্ষমতায় দুর্নীতি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে,
যে কোনো দেশে বড় কোনো অন্যায়
বা দুর্নীতি দেখা দিলে সেখানে অ্যানোনিমাস
হ্যাকার টিমের আক্রমণ সুনিশ্চিত। দুর্নীতির
বিরুদ্ধে প্রতি বছর ৫ নভেম্বর অ্যানোনিমাস
সারাবিশ্ব থেকে ‘মিলিয়ন মাস্ক মার্চ’ বের করে।
প্রতি বছর এই দিনেও তারা বড় বড় সাইবার
আক্রমণ পরিচালনা করে। প্রতিবাদের হাতিয়ার
যে হ্যাকিং হতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছে বিশ্বসেরা হ্যাকার
সংগঠনটি।
Don'tForget

http://www.facebook.com/BTtutorial
http://www.twitter.com/BTtutorial

searchfeed

সূত্র :BTtutorial

Advertisements